Originally posted in সমকাল on 1 February 2026

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান বলেছেন, অল্প বয়সী মেয়েদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নকে দমিয়ে রাখার জন্য আজও একটি প্রাচীন অজুহাত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তা হলো– সীমা। মেয়েদের বলা হয়, তারা সব করতে পারবে ঠিকই, কিন্তু তাদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি বা সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘সুলতানার স্বপ্ন: শিক্ষার্থীসম্পৃক্ত সৃজনশীল পাঠ’ শীর্ষক গ্রন্থপাঠ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ আজও নারীর অগ্রযাত্রার পথে সমান প্রাসঙ্গিক। এ গ্রন্থের মূল সুরকে ধারণ করে গতকাল স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। অনুষ্ঠানে ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক রওনক জাহান।
অনুষ্ঠানে রওনক জাহানের বোন রওশন জাহান সম্পাদিত ও আমেরিকার ফেমিনিস্ট প্রেস থেকে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থের কপি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইউনেস্কোর বিশেষ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, গত ৭০ বছরে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতি হলেও নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির মূলে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সাত দশক আগে ছোটবেলায় আমাকে যা শুনতে হতো, আজকের আধুনিক যুগেও মেয়েদের একই বয়ান শুনতে হচ্ছে। আজও বলা হয়– ছেলেরা সব করতে পারবে, কিন্তু মেয়েদের ঘরের ভেতরে থাকা বা সীমার মধ্যে চলা ভালো। এ মানসিকতা আসলে নারীর সক্ষমতাকে অস্বীকার করার একটি অপকৌশল মাত্র।’
সুলতানার স্বপ্ন বইটির বিশেষত্ব উল্লেখ করে এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শিক্ষার্থীদের জানান, বেগম রোকেয়া এ গ্রন্থে অত্যন্ত রসাত্মক ঢঙে দেখিয়েছেন– নারী ও পুরুষের প্রচলিত সামাজিক ভূমিকাগুলোকে চাইলেই বদলে দেওয়া সম্ভব।
রওনক জাহান বলেন, বইটিতে দেখানো হয়েছে– মেধা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীরাও যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম। অর্থাৎ পৃথিবী শাসনের জন্য কেবল শারীরিক শক্তি বা বাহুবলের প্রয়োজন নেই, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাই আসল শক্তি।
নিশাত মজুমদার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অভিজ্ঞতার আলোকে অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রমের আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক অনুষ্ঠানে আসা শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।


