Wednesday, January 28, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ছিল না – দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

Originally posted in আজকের পত্রিকা on 20 January 2026

সুপারিশেই আটকে আছে সংস্কার

ছবি: প্রতিনিধি

রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত একাধিক সংস্কার কমিশন ঘিরে শুরুতে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমেই অনিশ্চয়তায় রূপ নিচ্ছে।

সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম ও স্থানীয় সরকারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অধিকাংশ সংস্কার এখনো প্রস্তাব ও প্রাথমিক উদ্যোগের গণ্ডিতেই আটকে আছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা, নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামোর অভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তাদের মেয়াদে যথেষ্ট সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে এর চেয়ে বেশি সংস্কার আর হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে যতটুকুই করেছে তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি। সংবিধান বা বিদ্যমান আইনে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার কোনো বাধ্যতামূলক বিধান না থাকায় সরকার চাইলে গ্রহণ করতে পারে, আবার উপেক্ষাও করতে পারে। ফলে সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংস্কার প্রক্রিয়া যদি শুধু সুপারিশভিত্তিক ও অনিশ্চিত থাকে, তাহলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার বদলে হতাশাই বাড়াবে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংস্কার বাস্তবায়নের স্পষ্ট উদ্যোগ না থাকলে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করার লক্ষ্যে এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়।

জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠাকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে।

এর আওতায় সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, শ্রম, নারী ও গণমাধ্যমসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতগুলোতে আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রস্তাব প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ধারাবাহিকতায় গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সত্য উদঘাটন ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে একাধিক শ্বেতপত্র কমিটি ও সংস্কার কমিটিও কাজ করেছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গুম সংক্রান্ত ‘কমিশন অব এনকোয়ারি’ গঠন করা হয়। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনে সম্মতি প্রদান, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে অনুস্বাক্ষরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের এসব উদ্যোগ দেশটির রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন সংস্কার এ সরকারের শীর্ষস্থানীয় অর্জনের মধ্যে অন্যতম, অবশ্য যদি বাস্তবিকই প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয় সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সংসদ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মতে, সব সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে সংগৃহীত অন্তর্বর্তী মেয়াদে আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশমালা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে প্রথম পর্যায়ে গঠিত ছয়টির বাইরে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, নারীবিষয়ক, শ্রম ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর শ্বেতপত্র ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

সর্বোপরি অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে যতটুকুই করেছে তার প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রতিরোধক মহলকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল এবং সংস্কারপরিপন্থি অনেক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, এমনকি জুলাই সনদকে যুক্তিহীনভাবে লঙ্ঘন করে এমন নেতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা পরবর্তী সরকারেরও অনুসরণ করার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের একাংশের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকারের নতি স্বীকারের ফলে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার-এর তথ্যমতে, দুদক সংস্কার কমিশন মোট ৪৭টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ২২টি সংস্কার এখনো প্রস্তাবের স্তরে রয়েছে, যেখানে সংস্কারসংক্রান্ত ধারণা বা প্রতিশ্রুতি শুধু প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮টি সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সীমিত রয়েছে সার্কুলার, নোটিস কিংবা প্রাথমিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যেই।

এ ছাড়া মাত্র ৭টি সংস্কার নীতি, আইন বা বিধিমালার মাধ্যমে আইনি ও নীতিগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির একটি প্রাথমিক ধাপ। তবে কোনো সংস্কারই এখনো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

এ ছাড়া গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মোট ২৭টি সুপারিশের মধ্যে ১৪টি সংস্কার এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। এ ছাড়া ১১টি সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি ও নীতিগত কাঠামোর আওতায় এসেছে মাত্র ১টি সংস্কার। একইভাবে মাত্র ১টি সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে। তবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর মতো কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো একটিও হয়নি।

এ ছাড়া কয়েকটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শ্রম খাত উন্নয়নে সংস্কার কমিশনের দেওয়া ২৫ সুপারিশের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র তিনটি। তবে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণসহ মৌলিক সংস্কারের সুপারিশে এখনো নজর দেওয়া হয়নি। শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এসব সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮ সুপারিশের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ১৮টি। পরে তার মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র তিনটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন হওয়া প্রস্তাব তিনটি হলো— মহাসড়কের ফিলিং স্টেশনে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার মৌলিক অধিকার এবং সব সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট বিরতিতে গণশুনানি নিশ্চিত করা। জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত বছরের ৩ অক্টোবর জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনপ্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

স্বাস্থ্য খাতে ৩৩ সুপারিশের মধ্যে বাস্তবায়ন মাত্র ৬টি। বাকি সময়ে কীভাবে ২৭টি সুপারিশ মন্ত্রণালয় কার্যকর করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গত ৫ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করে স্বল্প (ছয় মাস), মধ্য (১-২ বছর) ও দীর্ঘ মেয়াদে (২ বছরের বেশি) কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়। ৩৩টি সুপারিশকে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো— এ সরকারের সংস্কারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ কিংবা ন্যূনতম রাজনৈতিক দর্শন ছিল না। সে অর্থে সরকারের কোনো সুসংহত রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোও ছিল না, যা সংস্কার কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করতে পারত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান খোলা কাগজকে বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকেই বেশ কিছু সমস্যা ছিল। তার মতে, ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব থেকে মাত্র ছয়টি সংস্কার কমিশনের বিষয় গ্রহণ করেছে, যেগুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছে। তবে বাকি পাঁচটি কমিশন প্রস্তাবের সুপারিশ নিয়ে কার্যত কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ সংস্কারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো প্রকৃত অর্থে সম্পৃক্ত হয়নি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তিনি নিজে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন। কিন্তু সেই কমিশনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও ঐকমত্য কমিশনে স্থান পায়নি। তবে পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ বলতেও নারাজ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই তিনি জানতেন যে সব সুপারিশ বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। তবুও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ডকুমেন্ট তৈরি হয়েছে, এটিই এ প্রক্রিয়ার বড় অর্জন। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল যদি সংস্কার উদ্যোগ নিতে চায়, তাহলে এ ডকুমেন্ট তাদের জন্য একটি প্রস্তুত রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে এর চেয়ে বেশি সংস্কার আর হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যতটা সংস্কার হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে তেমনটি এর আগে আর হয়নি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুধু ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং সেক্টরে যে সংস্কার হয়েছে, তার ফল সবাই দেখতে পাচ্ছে। ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। রেমিট্যান্স যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে। এগুলো সংস্কার ছাড়া করা সম্ভব ছিল না।