Originally posted in প্রথম আলো on 15 September 2026

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ব্যাংকিং সেবা সহজে পৌঁছায় না, সেখানে ক্ষুদ্রঋণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে, যেমন এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশেও এর কার্যকারিতা দেখা যায়। আফগানিস্তানের মতো কঠিন পরিবেশেও ক্ষুদ্রঋণ অনেক পরিবার ও নারী উদ্যোক্তাকে টিকে থাকতে সহায়তা করছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই ঋণ আরও কার্যকরভাবে কীভাবে দেওয়া যায়। প্রযুক্তি এখানে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের পরিচয় ও সক্ষমতা যাচাইয়ের খরচ কমানো সম্ভব।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের বড় একটি অংশ এখনো প্রয়োজনীয় ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত।
নতুন উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে পুরোনো উদ্যোক্তার মতো কেওয়াইসি বা ঋণ মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তাঁদের ব্যবসার ধরন ও ঝুঁকি ভিন্ন। কৃষির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মৌসুম, অঞ্চল, পণ্য ও খাতভেদে ঋণের শর্ত ও আর্থিক পণ্য আলাদা হওয়া দরকার। এর সঙ্গে বিমা যুক্ত করা জরুরি। জলবায়ু ও আবহাওয়ার ঝুঁকিপ্রবণ কৃষকদের জন্য প্যারামেট্রিক (নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি যাচাই করে আগে থেকে নির্ধারিত সূচক) বিমা কার্যকর হতে পারে।
সবশেষে বলব, শুধু ঋণ নয়, উপযুক্ত ঋণ নিশ্চিত করতে খাত ও অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা আরও বাড়াতে হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এসএমই ফাউন্ডেশন ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান—সবারই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা আছে।


