Monday, June 1, 2026
spot_img
Home Op-eds and Interviews Mustafizur Rahman

এলডিসি উত্তরণ টেকসই করতে বাংলাদেশকে দক্ষতা ও উৎপাদননির্ভর প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় যেতে হবে – মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in দেশকাল নিউজ on 24 May 2026

এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে বাংলাদেশ যে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়ন করেছে, তার আলোকে আগামী বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। দেশকাল নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে আসন্ন জাতীয় বাজেট, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার প্রসঙ্গ। তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ‘দেশকাল নিউজ’-এর সম্পাদকীয় সহযোগী সৈয়দ রাইয়ান আমীর। নিচে পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরা হলো।

দেশকাল নিউজ: ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমরা অনেক রপ্তানি সুবিধা হারাব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আগামী বাজেটে শিল্প খাতের জন্য কী ধরনের বিশেষ ‘ট্রানজিশনাল সাপোর্ট’ বা কৌশল থাকা উচিত?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আগামী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ ঘটার কথা রয়েছে। উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশকে আরও প্রায় তিন বছর অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা প্রদান করবে—এ বিষয়টি আমাদের জানা। তা সত্ত্বেও, আমাদের আগাম ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলেও, আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ সমানতালে অব্যাহত রাখতে হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য, যার মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা প্রত্যাহারের পরও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের এই উত্তরণকে টেকসই করতে হলে, কেবল বাজার-সুবিধা নির্ভর সক্ষমতার পরিবর্তে আমাদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা-ভিত্তিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে ধাবিত হতে হবে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জসমূহ সফলভাবে মোকাবিলা করে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে, আসন্ন বাজেটে শিল্প খাতের বিকাশ, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সুস্পষ্ট ও রূপান্তরমূলক পরিকল্পনার প্রতিফলন থাকা দরকার।

এরইমধ্যে এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে বাংলাদেশ যে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়ন করেছে, তার আলোকে আগামী বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বেসরকারি খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে এবং দক্ষ শ্রমশক্তি নিশ্চিত করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষতা উন্নয়নে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন শিল্প ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তার জন্য বাজেটে ‘ইনোভেশন ফান্ড’ এবং ‘স্টার্টআপ ফান্ড’-এর মতো বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এছাড়া, এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে সরাসরি নগদ প্রণোদনা দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হবে না বিধায় বিকল্প হিসেবে বাজেটে একটি ‘টেকনোলজি ফান্ড’ গঠন করা যেতে পারে, যেখান থেকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনকারী রপ্তানিকারকদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরোক্ষ প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিগত সময়ে মূল্যস্ফীতিসহ নানাবিধ অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে আমাদের শিল্প খাত বেশ চাপের মুখে রয়েছে, যার ফলে বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শতাংশে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে এমন একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে বেসরকারি খাত নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় (Cost of Doing Business) কমানোর লক্ষ্যে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বা এক ছাতার নিচে সেবা প্রদান এবং লজিস্টিকস নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সংস্থান রাখা জরুরি। এর মাধ্যমে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে বেসরকারি খাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে, যা একদিকে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে এবং অন্যদিকে রপ্তানি বহুমুখীকরণে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহায়ক ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে; বিধায় আসন্ন বাজেটে এই লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত কৌশলের প্রতিফলন থাকা অপরিহার্য।

দেশকাল নিউজ: প্রতি বছর দেশ থেকে বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এবারের বাজেটে কি কেবল গালভরা বুলি থাকবে, নাকি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং পাচার রোধে কোনো কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিফলন আমরা দেখব?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: বিগত সময়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ হুন্ডি ও হাওয়ালার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ও আন্ডার-ইনভয়েসিং বা ট্রেড মিসপ্রাইসিংয়ের মাধ্যমে ঘটে থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ থেকে অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রাপ্য বৈদেশিক মুদ্রাও দেশে আসছে না। এই দ্বিমুখী অর্থ পাচার রোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, যা কেবল বাজেটের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি ও কাঠামোগত উদ্যোগের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। দেশি-বিদেশি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, এসব প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিতকরণ এবং আইনি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান রাখতে হবে। সর্বোপরি, অর্থ পাচার রোধে বাজেট এবং এর আওতাবহির্ভূত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর ও সুদৃঢ় সমন্বয় নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।

দেশকাল নিউজ: জিডিপির তুলনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বরাদ্দ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বনিম্ন। মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের ‘গুণগত ব্যবহার’ নিশ্চিত করার কোনো পরিকল্পনা কী আদৌ আছে?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সম্ভাব্য বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট চিত্র আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও, এটি অনস্বীকার্য যে, জিডিপির অনুপাতে এ দুটি খাতে আমাদের বরাদ্দ বৈশ্বিক মানদণ্ডে অন্যতম সর্বনিম্ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমাদের দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ০.৭ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ০.৩ শতাংশ; অন্যদিকে শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সিংহভাগ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের মতো গুণগত উন্নয়নের দিকগুলো তুলনামূলকভাবে অবহেলিত থেকে যায়। তাই আগামী বাজেটে এ খাতগুলোতে কেবল মোট বরাদ্দ বৃদ্ধিই নয়, বরং বরাদ্দের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি, যার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় দক্ষ জনবলের সংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে বরাদ্দের ক্ষেত্রে আন্তঃসমন্বয়হীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে মূল্যবান ভবন ও যন্ত্রপাতি জনবলের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকার মতো জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়।

আসন্ন বাজেটে আমরা এমন একটি গুণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে; যার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন ধারার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে মেধাভিত্তিক জনবল নিয়োগের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সাথে বাজেটারি বরাদ্দের সুদৃঢ় সমন্বয় জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত বা ‘আউট-অব-পকেট’ ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ; তদুপরি শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিবারগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, জনস্বার্থ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করে ব্যক্তিগত ব্যয় হ্রাস করার পাশাপাশি শিক্ষা খাতে কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধিই নয়, বরং বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের নির্ধারিত স্তরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দক্ষতা ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে পারে, তা নিশ্চিতকরণে বাজেটে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত রূপরেখার প্রতিফলন থাকতে হবে।

দেশকাল নিউজ: আমাদের রাজস্ব আদায়ের সিংহভাগই আসে অপ্রত্যক্ষ কর বা ভ্যাট থেকে, যার চাপ পড়ে মূলত গরিবের ওপর। প্রত্যক্ষ কর বা ধনীদের ওপর করারোপের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধাগুলো আগামী বাজেটে সরকার কীভাবে অতিক্রম করতে পারে?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: দেশের মোট রাজস্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অপ্রত্যক্ষ কর (যেমন: মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট) থেকে আহরিত হয় এবং মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যক্ষ কর থেকে আসে; অথচ সম্পদ, ভোগ ও আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার যে অন্তর্নিহিত দর্শন বাজেটে থাকে, তা কেবল প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। অপ্রত্যক্ষ করের ওপর এই অত্যধিক নির্ভরশীলতা নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর অসম ও বৈষম্যমূলক চাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া, জনগণের প্রদত্ত ভ্যাটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাজস্ব লিকেজ ও দুর্নীতির কারণে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না বিধায়, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে এই অপচয় ও অনিয়ম সম্পূর্ণভাবে রোধ করতে হবে। সর্বোপরি, বাজেটের মূল দর্শনের সাথে সাযুজ্য রেখে প্রত্যক্ষ করের আওতা ও আদায় বৃদ্ধি করা অপরিহার্য; তাই কর প্রদানে সক্ষম অথচ কর জালের বাইরে অবস্থানকারী কিংবা কর ফাঁকির সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি, আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মূল কৌশল হিসেবে করভিত্তি সম্প্রসারণ করা অত্যাবশ্যক; বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে প্রত্যক্ষ কর আদায়ের নিম্নহার নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নগদবিহীন লেনদেন বা ‘ক্যাশলেস’ সমাজব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিতপূর্বক প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বিধায়, আসন্ন বাজেটে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন কাম্য। প্রত্যক্ষ কর রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পদ কর (Wealth Tax) ও উত্তরাধিকার কর (Inheritance Tax) প্রবর্তনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার সময় এসেছে। আসন্ন বাজেটে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকার পাশাপাশি সৎ করদাতাগণ যেন কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, তার নিশ্ছিদ্র নিশ্চয়তা বিধান করা অপরিহার্য। এছাড়া, কর ফাঁকির সম্ভাব্য সকল পথ রুদ্ধ করা এবং বিদ্যমান সম্পদ সারচার্জ থেকে পূর্ণাঙ্গ সম্পদ করের দিকে উত্তরণের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে প্রত্যাশিত। সর্বোপরি, প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ঘাটতি থাকা খাতগুলোতে ‘ট্যাক্স ইন্টেলিজেন্স’ জোরদারকরণ এবং ফরেনসিক তদন্তের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান রাখতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কর ফাঁকির সব ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় সুনিশ্চিত করতে পারে।

দেশকাল নিউজ: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে। প্রতি বছর দুর্যোগ মোকাবিলায় বাজেটের একটা বড় অংশ খরচ হয়। একটি টেকসই ‘গ্রিন ইকোনমি’ গড়ে তুলতে এবং অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অর্থায়নে আগামী বাজেটে বিশেষ কোনো জলবায়ু-তহবিলের প্রয়োজন দেখছেন কি?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: সবুজ অর্থনীতি বা ‘গ্রিন ইকোনমি’ বিনির্মাণের উদ্যোগগুলোতে অর্থায়নের লক্ষ্যে একটি পৃথক জলবায়ু তহবিল গঠন করার পাশাপাশি, টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিতকল্পে সমগ্র অর্থনীতিজুড়েই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর প্রসার ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা অপরিহার্য। এই সবুজ রূপান্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিধায়, সোলার প্যানেল আমদানি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা থাকা দরকার। বিশেষ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অদূর ভবিষ্যতে আমদানিকৃত পণ্যের কার্বন নিঃসরণ মাত্রার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করায়, আমাদের শিল্প ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। এমতাবস্থায়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় আগ্রহী শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বাজেটের রাজস্ব কাঠামোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির (Green Technology) আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং একটি বিশেষ ‘গ্রিন ফান্ড’ বা সবুজ তহবিল গঠন করা যেতে পারে; যেখান থেকে সোলার প্যানেলসহ অন্যান্য টেকসই ও কার্বন-নিরপেক্ষ প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে প্রতিফলিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

দেশকাল নিউজ: বড় বড় ভৌত অবকাঠামো বা মেগা প্রজেক্টের ভিড়ে অনেক সময় মানবসম্পদ উন্নয়ন গুরুত্ব হারায়। বর্তমান ঋণের বোঝার কথা মাথায় রেখে নতুন মেগা প্রকল্প না নিয়ে চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বাজেটে কতটা কঠোরতা প্রয়োজন?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: বাংলাদেশের মতো বিকাশমান অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে বৃহৎ বা মেগা প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য; বিশেষ করে জনযোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে রেল ও মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ এবং কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচ অবকাঠামো বা ব্যারেজ নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বৃহৎ বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক। তবে, ক্রমবর্ধমান ঋণের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের মিতব্যয়ী ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বিধায়, নতুন মেগা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার কঠোরভাবে বিবেচনাপূর্বক অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ আপাতত পরিহার করা সমীচীন। অপরদিকে, বর্তমানে পর্যালোচনানাধীন প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের মধ্যে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পসমূহ যৌক্তিকভাবে বাতিল করে, যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হয়েছে বা যেগুলো সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রকল্পসমূহের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণপূর্বক নির্ধারিত সময়ে, সাশ্রয়ী ব্যয়ে এবং সর্বোচ্চ সুশাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সেগুলোর সফল সমাপ্তির ওপর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আগামী বাজেটের জন্য একান্ত আবশ্যক।

দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend)-এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু আমাদের জনমিতিক লভ্যাংশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় এরইমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনে মাত্র ১০-১৫ বছরের একটি সীমিত সময়কাল অবশিষ্ট রয়েছে, সেহেতু এই সুবর্ণ সুযোগের কার্যকর সদ্ব্যবহারকল্পে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ চাহিদার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ বা মেগা প্রকল্প গ্রহণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য (Trade-off) রক্ষার বিষয়টি সর্বদা বিবেচ্য হলেও, খাত দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ না ভেবে বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন। বস্তুতপক্ষে, দক্ষ মানবসম্পদ ব্যতিরেকে মেগা প্রকল্পসমূহের সফল বাস্তবায়ন ও কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়; যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হলো ইতোপূর্বে বাস্তবায়িত বৃহৎ প্রকল্পগুলোর পরিচালনায় অব্যাহত বিদেশি নির্ভরতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (Technology Transfer) সীমাবদ্ধতা। এমতাবস্থায়, যৌক্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণপূর্বক ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও মানবসম্পদ গঠন—উভয় খাতের সুষম, সমন্বিত ও পরিপূরক বিকাশের লক্ষ্যে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেটে এর যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।

দেশকাল নিউজ: বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং বিমার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি ধীর। কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগী রোধে বাজেটে কী ধরনের উদ্ভাবনী বরাদ্দ থাকা দরকার?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: বাংলাদেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের পাশাপাশি জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নীতিগত সহায়তা প্রদান অপরিহার্য। বৈশ্বিক বাজারের সাথে দেশীয় কৃষিকে সম্পৃক্ত করতে কৃষিজ পণ্য ও নিরাপদ প্রোটিন উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা সার্টিফিকেশন নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে ট্রেসিং এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। অপরদিকে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করে প্রান্তিক উৎপাদন পর্যায় (Farm Gate) থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা কেবল বাজেটের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি বাজার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। সর্বোপরি, কৃষির বহুমুখীকরণ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে এবং কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাবলয়ের আওতায় আনতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করে একটি কার্যকর ‘ক্রপ ইন্স্যুরেন্স’ (শস্য বীমা) কাঠামোর প্রবর্তন আগামী বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কৃষিপণ্যের অনাকাঙ্ক্ষিত অপচয় রোধ ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি প্রশমনকল্পে আসন্ন বাজেটে কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও জিডিপিতে এর অবদান মাত্র ১২ শতাংশের কাছাকাছি, যা প্রমাণ করে যে কৃষিতে শ্রম-উৎপাদনশীলতা জাতীয় গড়ের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। এই উৎপাদনশীলতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীতকরণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে আধুনিক বাজারজাতকরণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির পাশাপাশি, কৃষি ও জলবায়ু-সহনশীল প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ সেবাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী জনবল ও অর্থায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। সর্বোপরি, পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় কৃষিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে নতুন পোলট্রির জাত উদ্ভাবনসহ সার্বিক গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রমে বাজেটে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের প্রতিফলন থাকা অপরিহার্য।

দেশকাল নিউজ: আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা হাতছাড়া হতে চলেছে। শিক্ষিত বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই যুগে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবারের বাজেটে কী ধরনের ‘গেম-চেঞ্জিং’ বরাদ্দ থাকা উচিত?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: জনমিতিক লভ্যাংশের অবশিষ্ট সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের যুবসমাজের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল খাতে পরিপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য; বিশেষত উচ্চশিক্ষিতদের মাঝে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের উদ্বেগজনক প্রবণতা নিরসনে এটি একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগে ফ্রিল্যান্সিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আইটি-নির্ভর সেবাক্ষেত্রে (আইটিইএস) এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে তরুণদের যে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাকে উৎসাহিত করতে প্রথাগত জামানত-নির্ভর ঋণের পরিবর্তে সহজলভ্য অর্থায়ন ও ‘ইনোভেশন ফান্ড’ বা উদ্ভাবনী তহবিলের প্রসার ঘটানো অত্যাবশ্যক। এমতাবস্থায়, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আসন্ন বাজেটে একটি বৃহৎ ও নিবেদিত ঋণ তহবিল গঠন করার পাশাপাশি, নির্মাণাধীন আইটি পার্কগুলোর প্রকৃত সুফল যেন তরুণেরা ভোগ করতে পারে, তার যুগোপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি, ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বহুমুখী উদ্যোগে আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের সুস্পষ্ট প্রতিফলন আমরা প্রত্যাশা করছি।

দেশকাল নিউজ: ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলেও তারা ব্যাংক ঋণ ও নীতিগত সহায়তা পান না বললেই চলে। বাজেটে এসএমই খাতের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বা সহজ শর্তে ঋণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা কতটা জরুরি?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: কর্মসংস্থান সৃজন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, বৃহৎ খাতের তুলনায় এটি প্রায়শই কাঙ্ক্ষিত নীতিগত মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৬-৮৭ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও, উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানাবিধ কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হন এবং অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির মতো বাজেট-বহির্ভূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটে এসএমই অর্থায়ন তহবিলের আকার বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কার্যকর পুনঃঅর্থায়ন (Refinancing) স্কিম প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক, প্রান্তিক ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যেন সহজে ঋণ প্রাপ্তি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বিঘ্ন বাজারজাতকরণের সুবিধা লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে প্রতিফলিত হওয়া অপরিহার্য।

দেশকাল নিউজ: আমাদের বাজেটের বেশিরভাগ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঢাকা বা চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। উত্তরাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর বৈষম্য কমাতে বাজেট বরাদ্দে কোনো নতুন ‘আঞ্চলিক সমতা নীতি’ কি দেখা সম্ভব?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আয়তনে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যমান আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনপূর্বক একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সুষম আঞ্চলিক সমতানীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৫ সালে চিহ্নিত ‘পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন’-এর আলোকে একসময় অঞ্চলভিত্তিক বিশেষ বাজেট বরাদ্দের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশে কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি উন্নয়ন মডেল দাঁড়িয়ে গেছে; যার ফলে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল দারিদ্র্য হার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের যেসব জেলায় দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, সেখানে বিশাল শ্রমশক্তি ও শিক্ষিত যুবসমাজকে নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত না করলে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ রোধ করা কিংবা প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সাধন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ায় শিল্পায়নকে ঢাকার বাইরে সম্প্রসারিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, ট্রান্সপোর্ট করিডোরগুলোকে ইকোনমিক করিডোরে রূপান্তর এবং স্থানীয় গ্রোথ সেন্টারগুলোকে শক্তিশালীকরণে আসন্ন বাজেটে সুনির্দিষ্ট অবদান থাকতে হবে। আমাদের ভৌগোলিক ক্ষুদ্র আয়তনের সুবিধার্থে রংপুরে উৎপাদিত কোনো পণ্য মাত্র ১২-১৪ ঘণ্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বিধায়, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে খুলনা ও বগুড়াকেন্দ্রিক বিগত দিনের হারিয়ে যাওয়া শিল্পাঞ্চলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাজেটারি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থা স্থাপন করা অপরিহার্য। সর্বোপরি, পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করে তাদের নিজস্ব চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশকাল নিউজ: গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, বছর শেষে বিশাল বাজেট কাটছাঁট করে ‘সংশোধিত বাজেট’ দেওয়া হয়। এই যে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে ব্যর্থতা—এতে কি বাজেটের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না? একটি বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নে আপনার পরামর্শ কী?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, ব্যক্তি খাতের বাজেটের সাথে সরকারি বাজেটের মৌলিক পার্থক্য হলো—সরকার প্রথমেই তার সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে, অতঃপর সেই ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের উৎসসমূহ চিহ্নিত করে এবং আয়ে ঘাটতি দেখা দিলে তা ঋণের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে। রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে সরকারের বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে; যেখানে অনুন্নয়ন বা রাজস্ব ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, গৃহীত ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ এবং বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি প্রদানেই মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয়িত হয়ে যায়। এর পাশাপাশি, উন্নয়ন বাজেটের আওতায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিতকরণে নীতিগত বিনিয়োগ এবং জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকার বিশাল ব্যয়ের প্রাক্কলন নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করলেও, দেশের সামষ্টিক রাজস্ব আহরণের চিত্র অত্যন্ত নগণ্য। বর্তমানে আমাদের মোট রাজস্ব আয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৭.৮ শতাংশ এবং কেবল কর রাজস্ব আয় জিডিপির ৬.৮ শতাংশ, যা এই অঞ্চলে এমনকি নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর মধ্যেও সর্বনিম্ন। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার দরুন সরকারকে বাধ্য হয়ে অধিক হারে ঋণ গ্রহণ করতে হয় অথবা পূর্বনির্ধারিত বাজেটের আকার কাটছাঁট করতে হয়। ফলশ্রুতিতে, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্কলিত লক্ষ্যের চেয়ে এবার প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে সরকারকে হয়তো অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, নতুবা দেশের উন্নয়ন বাজেটের আকার বাধ্য হয়েই সংকুচিত করতে হবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার ৮০-৮৫ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মূলত ঋণপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখার মানসে আমরা আয় ও ব্যয় উভয়ই সঙ্কুচিত করার যে দুষ্টচক্রে নিপতিত হয়েছি, তা আমাদের মতো বিকাশমান অর্থনীতির জন্য কোনোভাবেই সুফল বয়ে আনতে পারে না। এমতাবস্থায়, বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ কেবল বাস্তবসম্মত নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, আইনি ফাঁকফোকর বন্ধকরণ, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বাস্তব সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে, যাতে ঋণের মাত্রা নিরাপদ সীমার মধ্যে রেখেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ব্যয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এছাড়া, প্রকল্প প্রণয়ন পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ, আর্থিক ও অর্থনৈতিক রেট অব রিটার্নের (Internal, Financial, and Economic Rate of Return) যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিশ্চিত না করা, বাস্তবায়ন পর্যায়ে নতুন অনুষঙ্গ বা কম্পোনেন্ট যুক্ত করা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় (Procurement) সুশাসনের অভাবের কারণেই মূলত প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন হয় না এবং ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সুবিধার্থে একটি সঙ্কুচিত বা ছোট আকারের বাজেট প্রণয়নের কৌশল আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না।

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করতে আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থায়নের সংস্থান রাখা অপরিহার্য। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ থাকায়, কেবল আর্থিক ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের বাইরে মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের প্রকৃত ভৌত অগ্রগতি সর্বদা নিবিড়ভাবে তদারকি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই সীমাবদ্ধতা উত্তরণে প্রশাসনিক পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যে বাজেটের আওতায় সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। প্রতি বছর আয় ও ব্যয় উভয়ই সংকুচিত করে কৃত্রিমভাবে যে সামষ্টিক ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে, তা দিয়ে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মূলত, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব আয় ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুতপক্ষে, এই সামগ্রিক কাঠামোগত রূপান্তর কেবল বাজেটের সংখ্যাগত হিসাব নয়, বরং এটি একটি সুগভীর রাজনৈতিক দর্শনেরও বিষয়; যা আগামী বাজেটের পাশাপাশি আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছি।

দেশকাল নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.