জ্বালানি নীতি হোক সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার কৌশল – ফাহমিদা খাতুন

Originally posted in জাতীয় অর্থনীতি on 10 August 2026

ড. ফাহমিদা খাতুন একজন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের ইউএসএআইডি মিশনের অর্থনীতিবিদ। দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, পোশাকশিল্পের বাণিজ্যিক ঝুঁকি এবং বিনিয়োগের অভাবসহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় অর্থনীতি’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সানজিদুল ইসলাম 

জাতীয় অর্থনীতি: দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মূল কারণ কী?

ড. ফাহমিদা খাতুন: গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমলেও সময়মতো নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে শিল্প, বিদ্যুৎ ও নগরায়ণের কারণে চাহিদা বেড়েছে।

এছাড়া গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, অপচয়, সিস্টেম লস এবং খাতভিত্তিক অস্বচ্ছ বরাদ্দও সংকটকে তীব্র করেছে। ফলে এটি শুধু সরবরাহের ঘাটতি নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি খাতের শাসনব্যবস্থারও সংকট।

জাতীয় অর্থনীতি: গ্যাসের ঘাটতি বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর কী প্রভাব ফেলছে?

ড. ফাহমিদা খাতুন: অনির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পকারখানা পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় চলতে পারছে না। উৎপাদন বন্ধ রাখা, কর্মঘণ্টা কমানো এবং ডিজেল বা অন্যান্য ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করার ফলে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এতে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত মুনাফা কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া, নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এর প্রভাব শুধু শিল্প উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং সরকারের কর ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও কমিয়ে দিতে পারে।

জাতীয় অর্থনীতি: দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান নাকি এলএনজি আমদানি-কোন কৌশল বেশি কার্যকর?

ড. ফাহমিদা খাতুন: এটি একটির পরিবর্তে অন্যটি বেছে নেওয়ার বিষয় নয়। বর্তমানের সমস্যাটি প্রতিদিনের উৎপাদন তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এখানে একদিনও বসে থাকার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান, পুরোনো কূপের সংস্কার, নতুন কূপ খনন এবং আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ কোম্পানির সঙ্গে স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এলএনজি আমদানি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে ঘাটতি পূরণের সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু প্রধান কৌশল হতে পারে না। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জাহাজ চলাচল ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরতার কারণে এলএনজি ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৬ সালে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অনেক বেশি দামে স্পট এলএনজি কিনতে হয়েছে যা এ নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে।

জাতীয় অর্থনীতি: শিল্পকারখানায় গ্যাসের অগ্রাধিকারভিত্তিক বণ্টন কীভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে?

ড. ফাহমিদা খাতুন: গ্যাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের পরিবর্তে অর্থনৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। রপ্তানিমুখী, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, জরুরি পণ্য উৎপাদনকারী এবং তুলনামূলকভাবে জ্বালানি-দক্ষ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। কোন শিল্প কত গ্যাস পাচ্ছে, তার উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে অবদান কত এবং বরাদ্দকৃত গ্যাসের ব্যবহার কতটা দক্ষ— এসব তথ্য প্রকাশ করতে হবে। স্মার্ট মিটার, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বঘোষিত সরবরাহসূচি চালু করা প্রয়োজন। তবে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ অন্য খাতকে অনির্দিষ্টভাবে বঞ্চিত করা নয়; সাময়িক সংকটের সময় একটি স্বচ্ছ ও পরিমাপযোগ্য বরাদ্দ ব্যবস্থা তৈরি করা।

জাতীয় অর্থনীতি: গ্যাসের মূল্য সমন্বয় কি সংকটের কার্যকর সমাধান হতে পারে?

ড. ফাহমিদা খাতুন: শুধু দাম বাড়িয়ে গ্যাস সংকট সমাধান করা যাবে না। মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে অপচয় কমানো, দক্ষ ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ আদায় করা সম্ভব। কিন্তু সরবরাহের নিশ্চয়তা না দিয়ে বারবার দাম বাড়ালে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, অথচ উৎপাদন বাড়বে না। তাই মূল্য সমন্বয়ের সঙ্গে সরবরাহের মান, চাপ এবং সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি-দক্ষ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী শিল্পকে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে গ্যাসের দাম নির্ধারণের সূত্র, আমদানি ব্যয়, কর ও বিভিন্ন চার্জ প্রকাশ করা প্রয়োজন। শিল্পকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না দিয়ে উচ্চ মূল্য নেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়।

জাতীয় অর্থনীতি: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের করণীয় কী?

ড. ফাহমিদা খাতুন: সরকারকে একটি সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট ক্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য, সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অপচয় কমাতে হবে। একইসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পকারখানার ছাদভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশ করার লক্ষ্য রয়েছে; এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ ও গ্রিড সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করা।

জাতীয় অর্থনীতি: গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

ড. ফাহমিদা খাতুন: তৈরি পোশাক খাত সরাসরি বিদ্যুতের পাশাপাশি সুতা, কাপড়, ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিংয়ের মতো পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের মাধ্যমে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের চাপ কমে গেলে এসব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব সৃষ্টি হয়। কারখানাগুলোকে ডিজেল জেনারেটর বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। একইসঙ্গে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে বিমানপথে পাঠানোর খরচ, জরিমানা বা অর্ডার হারানোর ঝুঁকি দেখা দেয়। ভিয়েতনাম, ভারত ও অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ থাকলে বাংলাদেশের মূল্য ও সরবরাহ উভয় সক্ষমতাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

জাতীয় অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

ড. ফাহমিদা খাতুন: বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ভরযোগ্যতা। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু কম দাম দেখেন না; তারা সময়মতো পণ্য সরবরাহ, পণ্যের মান, পরিবেশগত মানদণ্ড, শ্রম অধিকার এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বিবেচনা করেন। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ও ডেলিভারি অনিশ্চিত হলে ক্রেতারা তাদের অর্ডারের একটি অংশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্য প্রকাশ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক শর্তও কঠোর হচ্ছে। অতএব বাংলাদেশের জন্য কম দামের সরবরাহকারী থেকে নির্ভরযোগ্য, পরিবেশসম্মত ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তর জরুরি।

জাতীয় অর্থনীতি: এলডিসি থেকে উত্তরণের পর পোশাকশিল্প কী ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে?

ড. ফাহমিদা খাতুন: এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিদ্যমান সুবিধা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাসের কঠোর যোগ্যতা, রুলস অব অরিজিন, শ্রম অধিকার, পরিবেশ ও সুশাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকার বর্তমানে জিএসপি প্লাসের পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।

শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মূল্য প্রতিযোগিতা দুর্বল হতে পারে। একইসঙ্গে ওষুধ খাতে মেধাস্বত্ব-সুবিধা, রপ্তানি ভর্তুকি এবং কিছু উন্নয়ন অর্থায়নের শর্তও পরিবর্তিত হবে। আর এই ধরনের অগ্রাধিকার সুবিধা ক্ষয়ের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিতে বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেই ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পেতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও দক্ষ এবং প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

জাতীয় অর্থনীতি: পোশাকশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন?

ড. ফাহমিদা খাতুন: নিরবচ্ছিন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি উন্নয়ন, অটোমেশন, জ্বালানি দক্ষতা, সৌরবিদ্যুৎ, পানি পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশসম্মত উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদের অর্থায়ন দিতে হবে। রপ্তানি প্রণোদনা শুধু নগদ সহায়তাভিত্তিক না হয়ে উৎপাদনশীলতা, পণ্যের বৈচিত্র্য, কৃত্রিম তন্তু, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও উচ্চমূল্য সংযোজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। বন্দর, কাস্টমস, পরিবহন ও বাণিজ্যিক নথিপত্র দ্রুত ডিজিটাল করলে লিড টাইম ও ব্যবসার ব্যয় কমবে। একইসঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশ, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি, জিএসপি প্লাসের প্রস্তুতি, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানার প্রযুক্তিগত রূপান্তরের জন্য পৃথক সহায়তা প্রয়োজন।

জাতীয় অর্থনীতি: জ্বালানি সংকট ও রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের বর্তমান নীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ড. ফাহমিদা খাতুন: সরকারের কিছু উদ্যোগ ইতিবাচক-যেমন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দ বৃদ্ধি, এলএনজির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাজেটে বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী বাজারসুবিধা ধরে রাখতে জিএসপি প্লাস ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা। তবে নীতির বড় দুর্বলতা হলো তা এখনও অনেকটাই সংকট দেখা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক। শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা, মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির সমন্বিত রোডম্যাপ স্পষ্ট নয়। নতুন গ্যাস সংযোগ স্থগিত রাখা বা সাময়িকভাবে লোড কমানো তাৎক্ষণিক চাপ সামলাতে পারে, কিন্তু এগুলো শিল্পায়নের সমাধান নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়েও সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে নতুন শিল্প সংযোগ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুতরাং সরকারের নীতিকে বিচ্ছিন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা থেকে বের করে শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশ এবং এলডিসি-উত্তরণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা কৌশলে রূপান্তর করতে হবে।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.