মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় নতুন বেতনকাঠামো যৌক্তিক – মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in বাংলাদেশ প্রতিদিন on 1 September 2026

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো সময়ের প্রয়োজনেই যৌক্তিক হয়েছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে ১১ বছর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের সরকারি কর্মচারীরা জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে বড় ধরনের চাপে রয়েছেন। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক এবং এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্কেল অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সরকারের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সাহসী পদক্ষেপ। সরকারের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতির অন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও সমান্তরাল পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন ড. রহমান। তাঁর মতে, ব্যবসাবাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন, একদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যেমন যৌক্তিক, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবাণিজ্যকে চাঙা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকা গতিশীল করার সঙ্গে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত, তাদের কার্যকারিতা বাড়াতে পারলে নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না এমন আশঙ্কার বিষয়ে ড. রহমান বলেন, গত চার বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি। কিন্তু এ সময়ে দেশে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির মূল সমস্যা সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং অর্থনীতির অন্য কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসাবাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকারের একদিকে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যদিকে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতগুলোকে চাঙা করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ দুটি কাজ সমান্তরালভাবে করা গেলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.