Wednesday, June 3, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

সারা বছর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিলে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বাড়বে – ড. মোয়াজ্জেম

Originally posted in দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড on 2 June 2026

চামড়া খাতের সম্ভাবনা যেভাবে হারাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রতিটি ঈদে প্রতিটি চামড়ায় লোকসানে

লাভের আশায় চামড়া কেনা অনেক ব্যবসায়ী কোনো ক্রেতা খুঁজে না পেয়ে—অবিক্রিত চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে দিতে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, গত প্রায় এক দশক ধরে সংকটে বন্দি থাকা এই চামড়া খাতের স্থায়ী অব্যবস্থাপনাই এর মাধ্যমে আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবারের ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়ার দাম আবারও মারাত্মকভাবে পড়ে গেছে। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংগ্রহকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন, যার ফলে দেশের চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের সংকট নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

লাভের আশায় চামড়া কেনা অনেক ব্যবসায়ী কোনো ক্রেতা খুঁজে না পেয়ে—অবিক্রিত চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে দিতে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, গত প্রায় এক দশক ধরে সংকটে বন্দি থাকা এই চামড়া খাতের স্থায়ী অব্যবস্থাপনাই এর মাধ্যমে আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মূল সমস্যাটি এখনও অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে: সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাকার বা সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে এই খাতটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স বা মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না, যা বড় বড় বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিচ্ছে।

রপ্তানি সম্ভাবনা এখনও অধরা

গত ১৬ মে সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনের সময় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে।

মন্ত্রীর মতে, দেশ বর্তমানে তার চামড়া শিল্পের সম্ভাবনার মাত্র শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা সম্ভব হলে, চামড়ার উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ বাড়ানো সম্ভব।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা গত এক দশকে কার্যত কোনো প্রবৃদ্ধি না হওয়ার চিত্র তুলে ধরে। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

চামড়া রপ্তানির এই গতিধারা শুধু স্থবিরই নয়, বরং এটি প্রতিনিয়ত নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২২৬ মিলিয়ন ডলারের চামড়া রপ্তানি করেছিল, যা পাঁচ বছর পর ক্রমাগত বেড়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এরপর থেকেই এখাতে ধস নামে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে চামড়া রপ্তানি ১৮৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১২৮ মিলিয়ন ডলারে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৭ মিলিয়ন ডলার।

ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. নাসির খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশি চামড়া কিনতে পারছেন না কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা স্থানীয় কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি পণ্য নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালার উদ্বেগের কারণে বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কেনেন না।”

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ভিয়েতনামের চামড়া রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশের কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের মধ্যে ভিয়েতনাম ২৯ বিলিয়ন ডলারের জুতো রপ্তানি করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুতো রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে—যা বাংলাদেশের চামড়া খাতের মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি।

নাসির খান বলেন, “এই ব্যবধানটি কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। ভিয়েতনাম তাদের অবকাঠামো তৈরি করেছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। আর বাংলাদেশ কোনো বর্জ্য শোধনাগার বা সুয়ারেজ প্ল্যান্ট ছাড়াই একটি ট্যানারি শিল্পনগরী গড়ে তুলেছে।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় সম্পদ—এই কাঁচা চামড়াকে ধ্বংস করে ফেলেছি। অথচ এর মাধ্যমে শত কোটি ডলার আয় করার বিশাল সম্ভাবনা ছিল।”

সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম দাম

সরকার এ বছর ঢাকার জন্য লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মাঝারি মানের একটি গরুতে সাধারণ ১৮-২০ বর্গফুট ও বড় গরু থেকে ২৪-২৬ বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। ফলে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দাম প্রতি বর্গফুট ৬৭ টাকা হিসাবে, মাঝারি মানের লবণযুক্ত একটি চামড়ার দাম দাঁড়ায় ১,২০০ থেকে ১,৩৫০ টাকা, আর বড় চামড়ার ক্ষেত্রে ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকা।

তবে বাস্তবে বাজারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো, যেখানে চামড়ার দাম ছিল সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম।

ঢাকায় আকার ও গুণমানের ওপর ভিত্তি করে এবার বেশিরভাগ কাঁচা চামড়া ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান চামড়া ব্যবসা কেন্দ্র পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার বেশি দাম দিয়ে কোনো চামড়া কেনেননি।

মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারেরা (ডিপো মালিক) সরকারের বেঁধে দেওয়া দামকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন।

আড়তদারেরা সরকারি দরের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনার কথা স্বীকার করলেও, এই পরিস্থিতির জন্য তাঁরা চামড়া সংরক্ষণ, পরিবহন এবং শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান মজুরিকে দায়ী করেছেন।

এ. কে. লেদারের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রুবেল হোসেন জানান, আমদানিকৃত কেমিক্যালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যালের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার (ফিনিশড লেদার) দাম বাড়েনি। বিদেশি ক্রেতারা বাড়তি মূল্য দিতে রাজি নন, তাই সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দামে আমাদের পক্ষে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না।”

রুবেল আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ক্রেতারা পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে চামড়া নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের চামড়ার বাজার এখন ব্যাপকভাবে চীনা ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

নাসির খান বলেন, দুই দশক আগে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, অথচ এখন একই ধরণের চামড়ার দাম ৫০০ টাকারও কম। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী, বর্তমানে এই দাম ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল।

তিনি বলেন, “এখন কেবল চাইনিজ বায়াররাই চামড়া কিনছেন এবং তাঁরা প্রতি বর্গফুটের জন্য মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিচ্ছেন, যা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের প্রায় অর্ধেক।”

বাজার কাঠামো নিয়ে পারস্পরিক দ্বিমত

চামড়ার বাজার ধসের পেছনে আসল দায় কার—তা নিয়ে খাত-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।

রুবেলের দাবি, আড়তদারেরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সস্তায় চামড়া কিনে তা সংরক্ষণ করার পর ট্যানারিগুলোর কাছে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর মতে, প্রতি পিস চামড়া সংরক্ষণে খরচ হয় মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

তবে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. টিপু সুলতান এই হিসাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, প্রতি পিস চামড়া সংরক্ষণের খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, “৪০০ টাকায় কেনা একটি চামড়া যখন ট্যানারিতে পৌঁছায়, তখন সব মিলিয়ে তার পেছনে প্রকৃতপক্ষে ৮০০ টাকা খরচ হয়ে যায়।”

তিনি গুণগত মানের সমস্যার কথাও উল্লেখ করে বলেন, অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়ার গুণমান সঠিকভাবে না বুঝেই ঈদের সময় বাজারে নেমে পড়েন এবং প্রায়শই ত্রুটিযুক্ত বা নষ্ট চামড়া বিক্রির চেষ্টা করেন।

এদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ আড়তদারদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট ও অসঙ্গতি তৈরির অভিযোগ এনেছেন।

তিনি বলেন, “আড়তদারেরা সারা বছর আমাদের কাছে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেন এবং কোনো অভিযোগ করেন না। তাদের সমস্ত অভিযোগ কেবল ঈদের সময়ই সামনে আসে।”

সাখাওয়াত আরও বলেন, কাঁচা এবং ওয়েট-ব্লু (আংশিক প্রক্রিয়াজাত) চামড়া রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারের পরিধি সীমিত হয়ে পড়েছে, যা ঈদুল আজহার সময় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ চামড়া ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই খাতের সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, পশুজবাইয়ের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় অবশ্যই লবণ দিতে হবে; নাহলে চামড়ার গুণমান স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ঈদের পরদিন সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনের পর বাণিজ্যমন্ত্রীও একই কথার প্রতিধ্বনি করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীরা সংরক্ষিত চামড়া কেনেন, পচা চামড়া নয়। আমি সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য আছে। লবণ ছাড়া চামড়ার কোনো স্থায়িত্ব বা লাইফ নেই—তা কে নেবে?”

ট্যানারি শিল্প সাভার স্থানান্তরের সাথেই সংকটের যোগসূত্র

শিল্প খাতের নেতারা বর্তমান সংকটের মূল উৎস হিসেবে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের ঘটনাকে দায়ী করেন।

২০১৭ সালের এপ্রিলে হাজারীবাগের কারখানাগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সরকার ট্যানারি মালিকদের সাভারে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করে। তবে শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিদের দাবি, সাভার শিল্পনগরী পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড বা কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি সিইটিপি এপর্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি, যা বাংলাদেশকে প্রধান প্রধান বৈশ্বিক বাজারে পুনরায় প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।

এর ফলে অনেক ট্যানারি মালিক আর্থিক সংকট ও ঋণখেলাপির মুখে পড়েছেন। আর পরিবেশ দূষণের প্রধান উদ্বেগটি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এখন ধলেশ্বরী নদীতে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বাজার উন্মুক্তকরণের দাবি

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ঈদুল আজহায় প্রতি বছর যে পরিমাণ চামড়া উৎপাদিত হয়, তা ধারণ বা প্রক্রিয়াজাত করার মতো সক্ষমতা আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারের নেই।

তিনি সরকারকে সারা বছর লবণযুক্ত এবং ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর যুক্তি হলো, বাজারের পরিধি বাড়লে তা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং চামড়া সংগ্রহের সনাতন পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি টিবিএস-কে বলেন, “যদি বাজার সারা বছর উন্মুক্ত থাকে, তবে নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনারও উন্নতি হবে।” মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন— চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত কাঁচা বা লবণযুক্ত এবং ওয়েট ব্লু চামড়া আমদানি করে। ফলে এসব দেশের বাজারকে টার্গেট করে চামড়া রপ্তানির বাজার উন্মুক্ত করা হলে– রপ্তানি বাড়বে।

চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সরকার এখনো সনাতনী পদ্ধতিতেই রয়েছে। ট্যানারি মালিক কিংবা আড়তদাররা যেভাবে বুঝাচ্ছে, সেভাবে চলছে। কিন্তু চামড়া সংগ্রহ কিংবা সংরক্ষণে বর্তমান পদ্ধতি যে কাজে আসছে না, সেটা প্রমাণিত। আগামীতেও এই পদ্ধতিতে কাজে আসবে না।”

সাভারে বাজার বিশৃঙ্খলার চিত্র

সাভার চামড়া শিল্পনগরী সরেজমিনে পরিদর্শন করে চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েছে।

ঈদের পর প্রথম সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীর অভিমুখে চামড়া পরিবহনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেছেন যে বিপুল পরিমাণ চামড়া ঈদের পরপরই সাভারে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন দুপুর থেকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৯টি কোরবানির পশুর চামড়া এই শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২টি।

গত বছর ঈদের প্রথম ৩ দিনে শিল্পনগরীতে মোট কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ করে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৭ পিস। যেখানে এ বছর ৩০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট চামড়া প্রবেশ করেছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫ পিস। শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, হঠাৎ এই বিপুল বৃদ্ধি নির্দেশ করে যে, সঠিক সংরক্ষণ বা লবণ দেওয়া ছাড়াই ঢাকার বাইরের একটি বড় অংশের চামড়া এবার সরাসরি শিল্পনগরীতে ঢুকে পড়েছে।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসার পর তাঁরা আড়তদারদের দেওয়া নামমাত্র দাম মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন; কারণ সেখান থেকে চামড়া ফেরত নিয়ে যাওয়ার মতো শ্রমিক বা পরিবহনের বাড়তি সক্ষমতা তাঁদের ছিল না।

অন্যদিকে ডিপো মালিকেরা বাজারের এই দুর্দশার জন্য নগদ টাকার সংকট, সরকারি অর্থায়নের অভাব এবং সাপ্লাই চেইনের ভেতরে বকেয়া টাকা সময়মতো পরিশোধ না হওয়াকে দায়ী করেছেন।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.