Originally posted in যুগান্তর on 3 June 2026
- সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে
- করমুক্ত আয়সীমা চার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা উচিত
- পতিত সরকারের লুটতন্ত্রের কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে

কঠিন এক বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা, দুর্বল আর্থিক খাত (ব্যাংক ও পুঁজিবাজার), জ্বালানি সংকট, রাজস্ব আদায় কম এবং দেশি-বিদেশি দায়দেনার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতির মূল কারণ পতিত সরকারের লুটপাটতন্ত্র, ঋণনির্ভর উন্নয়ন ও মানবসম্পদে কম বিনিয়োগ। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়েছে। অর্থনীতির এই ভঙ্গুর অবস্থায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। ফলে এই পরিস্থিতিতে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে মানুষের উচ্চ আকাঙ্ক্ষা তৈরি না করে সাহসিকতার সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। তার মতে, এবারের বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভর্তুকি ও কর রেয়াত এমন খাতে দিতে হবে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হয়। কারণ মানুষ এখন বিভিন্ন কার্ড বা ভর্তুকির চেয়ে বেশি চায় কাজ, স্থিতিশীল আয় এবং ন্যায্য সেবা। তিনি বলেন, করের হার না বাড়িয়ে আওতা বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা উচিত। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও সংস্কার রোডম্যাপ স্পষ্ট করা জরুরি। শেয়ারবাজার চাঙা করতে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের মালিকানাধীন শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, সংস্কার এবং সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মনির হোসেন।
যুগান্তর: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
ড. দেবপ্রিয়: দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়, এটি মোটামুটি সবার কাছে পরিষ্কার। তবে এই অস্বস্তির কারণ বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ। পতিত সরকার অর্থনীতি পরিচালনা করতে গিয়ে একটি লুটপাটতন্ত্র তৈরি করেছিল। এক্ষেত্রে নীতির সার্বভৌমত্ব কতিপয় গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে গিয়েছিল। এই গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে-কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, কিছু দুর্নীতিবাজ আমলা এবং কলুষিত রাজনীতিবিদ। ফলে গণ-অভ্যুত্থানটি শুধু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের কোটার বিষয় ছিল না, এটি ছিল সামগ্রিকভাবে মানুষের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। আর এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্রহীনতার কারণে। যেমন রাতের ভোট, ডামি নির্বাচন এবং বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন ইত্যাদি মিলিয়ে রাষ্ট্রের জবাবদিহি ভেঙে পড়েছিল। অনেকে মনে করছেন, এর ভেতরেও পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এবং ফ্লাইওভার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই দৃশ্যমান অর্থনীতির বাইরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মানবসম্পদ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। আর এসব প্রকল্প সাশ্রয়ী মূল্যে সম্পন্ন করা হয়নি। বিশাল ঋণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করায় সরকারের জন্য বড় অঙ্কের দায়দেনা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে এই দুর্বল অর্থনীতি পেয়েছে।
যুগান্তর: দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে সরকারের ১০০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো দুর্বলতা দেখছেন কিনা?
ড. দেবপ্রিয়: নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আগের সমস্যা বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশিদের শর্ত পালন করতে হচ্ছে। এই অবস্থা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক নয়। সরকারের দায়িত্বশীলরা অবশ্যই অত্যন্ত চাপ এবং জটিলতার মধ্যে আছেন, এটি মোটামুটি সবাই অবগত। সবাই সমস্যার কথা স্বীকার করছেন। প্রশ্ন হলো, এই সংকটের উত্তরণ কীভাবে হবে? এ রকম একটি পরিস্থিতিতে কীভাবে সর্বোচ্চ সমন্বয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষকে সুবিধা দেওয়া যায় সেখানেই প্রমাণ হবে সরকারের দক্ষতা। তবে সরকারের দুর্বলতা হিসাবে যে দুটি বিষয় সামনে চলে আসে, তা হলো-প্রথমত, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কোনো দলিল তৈরি করেনি, যেই দলিলের ভিত্তিতে বলা যায় আমরা এই অবস্থা থেকে সরকারের যাত্রা শুরু করেছি। সহজভাবে বললে, কোন প্রেক্ষাপটে বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটি মানুষের কাছে পরিষ্কার হলো না। দ্বিতীয়ত, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন পার হলেও সংকট মোকাবিলার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশলপত্র তৈরি করেনি। অর্থাৎ অর্থনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলার একটি বয়ান তৈরি করতে পারেনি।
যুগান্তর: এ অবস্থায় আগামী বাজেটে সরকারের জন্য করণীয় কী?
ড. দেবপ্রিয়: আমার সুপারিশ হলো বাজেট নিয়ে উচ্চ আকাঙ্ক্ষা তৈরি না করে সাহসিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সমস্যা ব্যাখ্যা করতে হবে। অর্থমন্ত্রী কোনো এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগবে। কিন্তু এই দুই বছরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমি দেখছি না। এবারের বাজেটে সেই পরিকল্পনা উল্লেখ থাকা উচিত। ধারণা করছি আগামী বাজেটেও এনবিআরকে বেশি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি আদায় হবে না। এটি অর্থনীতির বাস্তবতা এবং বাজেটে তা স্বীকার করা উচিত।
যুগান্তর: এবারের বাজেটে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী?
ড. দেবপ্রিয়: বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে পার্থক্য, এটি এই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সরকার যেসব পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা বলবে, তার সবটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবে না। যেমন বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই তৃণমূল পর্যায়ের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে, না হলে রাজনৈতিক সুচিন্তা জনমানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে না। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সুন্দর একটি বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। যা হলো ‘ফিসক্যাল সোশ্যাল কনট্রাক্ট’ বা আর্থিক সামাজিক চুক্তি। এটি সহজ করে বললে দাঁড়ায় ‘সরকার আমাদের সেবা দেবে, আমরা সরকারকে কর দেব। সরকার ঠিকমতো সেবা না দিলে আমরা কর দেব না।’ এই চুক্তির বাস্তবায়নই হওয়া উচিত বাজেটের মূল লক্ষ্য। বাজেটের হৃৎপিণ্ড হলো পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারের আয়, ব্যয় এবং ঘাটতি অর্থায়ন কীভাবে হবে সেই বিষয়টি উল্লেখ থাকে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সেটি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে খরচ এবং আয় দুটিই বাড়িয়ে বলা হয়। সরকার নিজেও জানে এই আয় এবং ব্যয় কোনোটিই বাস্তবায়ন হবে না। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজেট মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থেকে যায়। অর্থাৎ এমন একটি বাজেট দেওয়া হয় যেখানে ফিসক্যাল ডিসিপ্লিন (আর্থিক শৃঙ্খলা) থাকে না। ফলে অনেক খাতে বরাদ্দ থাকে। কিন্তু অর্থ ছাড় হয় না।
যুগান্তর: এবারের বাজেটে কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
ড. দেবপ্রিয়: এবারের বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে। বিনিয়োগ বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেয় সেটি বিবেচ্য বিষয়। সরকার সামাজিক নিরাপত্তায় ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের কথা বলছে। কিন্তু সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। সবার জন্য দরকার হবে কর্মসংস্থান। ফলে কর্মসংস্থানের পক্ষে কী ধরনের ব্যবস্থা এবং পলিসি সাপোর্ট বাজেটে থাকছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারের ভর্তুকি অবশ্যই বিনিয়োগসহায়ক হতে হবে। বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। অর্থাৎ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতির একটি শুভ চক্র সৃষ্টি করতে হবে। না হলে যা দাঁড়াবে, সেটি হলো গরিবের টাকায় ধনীদের ভর্তুকি দেওয়া। একটি রাজনৈতিক সরকারের কাছে এটি কাম্য নয়।
যুগান্তর: নতুন বাস্তবতায় বাজেট ঘোষিত হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো কী হওয়া উচিত?
ড. দেবপ্রিয়: বাজেটের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমটি হলো আয় কোথা থেকে আসবে? কারণ আগেই উল্লেখ করেছি বর্তমানে অর্থনীতি খুব কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হবে, সেটি ঠিকভাবে কার্যকর হবে কিনা। আয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স এক্সপেনডিচার বা কর ব্যয়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভর্তুকি এবং কর রেয়াত সুবিধা। এসব সুবিধার কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। আর একটি বিষয় আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী বাজেটে কোনো খাতে কোনো ধরনের কর যেন না বাড়ে। যে খাতে কর বাড়ানো হবে, সেগুলো অবশ্যই সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আবার ভ্যাটকে কেন্দ্র করে মানুষকে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের একটি উদাহরণ আমি দিতে চাই। তিনি বলতেন, এই ট্যাক্সগুলো আমাদের আসবে, করের আওতা বাড়িয়ে নতুন কর আদায়ের মাধ্যমে। আবার একটি অংশের কথা বলতেন, সেগুলো আসবে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। অর্থাৎ অর্থ যখন কম থাকে, তখন দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যয়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে।
যুগান্তর: আর্থিক খাতের সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
ড. দেবপ্রিয়: বাজেট যদি হয় হৃৎপিণ্ড, তবে তার দুটি ফুসফুস হলো আর্থিক খাত (ব্যাংক ও পুঁজিবাজার) এবং অপরটি জ্বালানি খাত। এই দুটি খাত ঠিক না হলে অন্য খাতে ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না। এর মধ্যে অন্যতম হলো আর্থিক খাত। সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে আর্থিক খাতের একটি সংস্কার কমিশন এবং পুঁজিবাজারের সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। হয়তো সেটি এখন পরিকল্পনাতেই নেই। এসব খাতে বড় পদগুলোতে নিয়োগ দিচ্ছে, কিন্তু সংস্কারের ব্যাপারে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এমনকি এনবিআরের ভেতরে স্বেচ্ছামূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে আমরা রাজস্বনীতি এবং বাস্তবায়ন আলাদা করার কথা বলে আসছি। অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর গত চার মাসে এই সরকার এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় এই সরকারের সাহস কতটুকু আছে। তারা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে থাকে, তবে এই সিদ্ধান্তটা কেন নিতে পারল না? এসব কারণে সংস্কারের জন্য সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারে সন্দেহ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণের টাকা ছাড় করেনি। আবার সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিং বাংলাদেশের রেটিং অবনমন করেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক ঋণমান (লংটার্ম ফরেন কারেন্সি) ‘বি প্লাস’ বহাল রাখলেও ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর)-এর আউটলুক বা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে।
যুগান্তর: বহু বছর পর্যন্ত দুর্বল অবস্থায় পড়ে আছে দেশের শেয়ারবাজার। আবার শেয়ারবাজারকে ব্যবহারও করতে পারছে না সরকার। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকারের করণীয় কী?
ড. দেবপ্রিয়: বিগত সরকার আর্থিক খাতে লুটপাটতন্ত্র তৈরি করেছিল, সেখানে শেয়ারবাজার অন্যতম। এই বাজারের সংস্কার জরুরি। এক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে বাজারের কাঠামো ঠিক করতে হবে। এরপর সরকারের হাতে যেসব কোম্পানির শেয়ার আছে, সেগুলো শেয়ারবাজারে ছেড়ে দিলে সরকারও টাকা পাবে এবং বাজারও চাঙা হবে। এটি অত্যন্ত পরীক্ষিত পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আমাদের দেশীয় মূলধন সংগ্রহের বড় সুযোগ রয়েছে। ফলে বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের যেসব শেয়ার আছে, সেগুলোও বাজারে ছাড়তে হবে।
যুগান্তর: করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর কথা আসছে। আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. দেবপ্রিয়: জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু আয় সেভাবে বাড়েনি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো কষ্টে আছে। কিন্তু কয়েক বছর পর্যন্ত মানুষের করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি। এখনো এটি সাড়ে ৩ লাখ টাকা আছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা উচিত।


