এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রয়োজন: নাজনীন আহমেদ

Originally posted in সমকাল on 12 September 2026

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সংস্কার চান ব্যবসায়ীরা

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বিনিয়োগ বাড়াতে এখনই নীতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য ঋণের সুদহার কমানো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখা, কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার সংস্কার, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বাড়ানো ও ব্যবসা শুরুর অনুমোদন দ্রুত করার ওপরও জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

এলডিসি থেকে উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার চিহ্নিত ও সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় এসব দাবি উঠে এসেছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। গত জুলাই মাসে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন হওয়া ‘স্মুথ ট্রানজিশন রোডম্যাপ ২০২৬-২৮’-এর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. আসাদুজ্জামান পাটোয়ারি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল খাতকে কীভাবে রোডম্যাপের আওতায় আনা যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বাজেটের আকারের সঙ্গে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নীতি সুদহার কমানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি ও আমদানি নীতি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের শিল্পনীতির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

২০২৭ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন ড. আসাদুজ্জামান। তাঁর মতে, শুধু রসগোল্লা বা টাঙ্গাইল শাড়ির মতো জিআই পণ্য দিয়ে এত বড় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ন্যূনতম মজুরির পরিবর্তে লিভিং ওয়েজ চালুর ক্ষেত্রে শিল্পের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে এখনই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সভায় সংগঠনটির মহাসচিব ড. শাহেদুল ইসলাম বলেন, পোশাক খাতে তুলা বা কটন-নির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃত্রিম তন্তুর ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে সাধারণ তুলার সমপর্যায়ে আনার দাবি জানান তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চমূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক উৎপাদন ও বাজার বহুমুখীকরণে নতুন প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনার দাবি জানান বিজিএমইএ মহাসচিব।

পোশাকশিল্পের মতো চামড়া ও ফুটওয়্যার খাতের জন্য কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থাপনায় আলাদা এসআরও জারির দাবি জানিয়েছে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। আংশিক রপ্তানিকারকদেরও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, চামড়া রপ্তানিতে ভারতের ‘ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ (বিআইএস) সার্টিফিকেশন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত বাংলাদেশের চামড়া ও ফুটওয়্যার শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হলেও সনদের কড়াকড়ির কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়াতে দেশে-বিদেশে বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণে সরকারি সহায়তা বাড়ানো এবং বিনিয়োগের ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসনের পাশাপাশি এই খাতের এক্সপোর্ট রিটেনশন ফান্ডের বরাদ্দ সাত কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেন।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, চামড়া ও ফুটওয়্যার খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও শ্রীলঙ্কা থেকে জনবল আনতে হয়। তাই দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে দুর্বল সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করারও দাবি জানান তিনি।
সব রপ্তানি খাতে সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং বর্তমান নগদ সহায়তা আরও তিন বছর বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি লজিস্টিকস ও কাস্টমস অটোমেশনের কাজকে রোডম্যাপের দ্বিতীয় বছরের পরিবর্তে প্রথম বছরের ‘কুইক অ্যাকশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ওষুধশিল্পে পেটেন্ট ও মেধাস্বত্বের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ বা সিইপিএ করার ক্ষেত্রে পেটেন্ট-সংক্রান্ত শর্ত ওষুধশিল্পের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কাঁচামাল আমদানি এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইআরডি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপানুষ্ঠানিক পত্র দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে উল্লে করেন তিনি। রপ্তানি, আমদানি ও পেটেন্ট নীতির মধ্যে সমন্বয় আনতে বাণিজ্য, শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাকে ওষুধ রপ্তানির সম্ভাবনাময় বাজার উল্লেখ করে এসব বাজারে প্রবেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে বিএপিআই। বিদেশি অডিটররা বাংলাদেশি ওষুধ কারখানা পরিদর্শনে এলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন ওষুধ উৎপাদনকারীরা।

কাস্টমসের নিজস্ব ব্যবস্থা ডিজিটাল হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ইনভয়েস ও এলসি-সংক্রান্ত তথ্য অনেক সময় হার্ডকপিতে আসায় পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মুবিনুল কবীর। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য কাস্টমস ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি ডিজিটালভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।

তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো’ থেকে আমদানির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, পারমিট ও সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে এবং এসব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাস্টমস ব্যবস্থায় যাবে। চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও পণ্য খালাসের মূল প্ল্যাটফর্ম থাকবে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী জানান, পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পকেও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় আনার কাজ চলছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ‘কালেক্টিভ ওয়্যারহাউস’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান সহজ করতে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. সাইফ উদ্দিন আহমদ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের ‘চিফ নেগোশিয়েটর’ নির্ধারণ করা হয়েছে। সিইপিএর তুলনায় এফটিএকে বাস্তবসম্মত বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আংশিক রপ্তানিকারকদের বন্ড সুবিধার আওতায় আনার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে কার্বন বর্ডার মেকানিজম, ডিজিটাল প্রডাক্ট পাসপোর্ট ও এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশনের মতো কমপ্লায়েন্স গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল রিকগনিশন এগ্রিমেন্ট না থাকাকে বাণিজ্যের বড় বাধা উল্লেখ করে বিএসটিআই-কে ইউরোপীয় ও জাপানি মানে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পরিচালক ড. হুমায়ুন কবির জানান, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ডিরেগুলেশনসহ অন্যান্য বিষয়ের বাস্তবায়নে কাজ চলছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাণিজ্যিক আদালত গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

সভায় ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে লাইসেন্স ও অনুমোদন পাওয়ার সময় কমিয়ে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন অনুমোদনের মেয়াদ পাঁচ বা ১০ বছর করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সভায় রোডম্যাপে বেসরকারি খাতের জন্য নির্ধারিত পৃথক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার সমন্বয়ের দায়িত্ব এফবিসিসিআই-কে দেওয়ার বিষয়ে মতামত আসে। এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, সব ব্যবসায়ী চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত সুপারিশ দেওয়া হবে।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রতিটি খাতের জন্য গবেষণা কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, দক্ষ জনবল তৈরি, সামাজিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত এবং নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশের জন্য বেসরকারি খাতের নিজস্ব কৌশল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোডম্যাপে বেসরকারি খাতের জন্য ১৫টি অ্যাকশন এরিয়া চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটির জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম, সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের এসব কার্যক্রমের ভিত্তিতে লিড ও কো-লিড নির্ধারণ করে সমস্যা ও সুপারিশ দ্রুত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহেমদ সমকালকে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। বরং উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ (এসটিএস) তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়লেও এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ উত্তরণের পর রপ্তানি, বৈদেশিক অর্থায়ন, দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং রাজস্ব কাঠামো– সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের চাপ আসবে।

নাজনীন আহেমদ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন জিএসপি নীতিমালা বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি কৌশল সাজাতে হবে। ডব্লিউটিওর বিশেষ সুবিধা কমে গেলে উচ্চ শুল্কনির্ভর বর্তমান রাজস্ব কাঠামোও দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হবে না। তাই এখন থেকে বিকল্প রাজস্ব উৎস ও কর ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তুতি প্রয়োজন। বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও এলডিসি উত্তরণের পর কম সুদের অর্থায়ন কতটা কমবে, তা অনুমানের ভিত্তিতে নয়; গত ৮-১০ বছরের ঋণপ্রবাহ ও সুদের হারের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা দরকার।

তাঁর মতে, ওষুধশিল্পসহ দেশীয় শিল্পকে উত্তরণ-পরবর্তী বাড়তি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র এনজিও খাতে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব এবং বিদেশে শিক্ষাবৃত্তির সুযোগে পরিবর্তনের বিষয়টিও এসটিএসে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.