জ্বালানি আমদানির চাপ সামলাতে এখনই কৌশলগত প্রস্তুতি জরুরি: তৌফিকুল ইসলাম খান

Originally posted in বিডিনিউজ২৪ on 10 September 2026

জুলাইয়ে আমদানি ব্যয়ের ২০ শতাংশই গেছে জ্বালানি তেলে

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করেছে সরকার।

জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বাড়ছেই। গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এ খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচের মধ্য দিয়ে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শুরু হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যা মোট আমদানি ব্যয়ের এক পঞ্চমাংশ। বর্তমান বিনিময় হারে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

এই অংক গত অর্থবছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৮৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে ৭৫ কোটি ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের পণ্য আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জুলাই মাসে পণ্য আমদানিতে সব মিলিয়ে ৬৭৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। যা গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুলাইয়ে ৬২৭ কোটি ৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে আমদানি খাতে মোট যত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশই গেছে জ্বালানি তেলে।

দেশের ইতিহাসে আর কখনো এক মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১০০ কোটি ডলার খরচ হয়নি। তবে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক থাকায় এই তেল আমদানিতে বিদেশি মুদ্রার জোগান দিতে সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে না।

এই মাসে পিওএল (পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল, ইঞ্জিন অয়েল এবং গ্রিজের মতো পরিশোধিত তরল জ্বালানি) বাবদ খরচ হয়েছে ১৩৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার. যা গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে ৯৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ব্যয় হয়েছিল ৬৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

তবে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে খরচ কমেছে ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে খরচ হয়েছিল ৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল, যা ছিল আগের আর্থিক বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৫১৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল।

২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে ওঠে। অন্যদিকে, পিওএল বাবদ ব্যয় ১০৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। টাকার হিসাবে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছিল।

বাংলাদেশে কখনই কোনো আর্থিক বছরে জ্বালানি তেলে এত অর্থ খরচ হয়নি। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল; যা ছিল এতদিন সবচেয়ে বেশি।

ওই আর্থিক বছরে কোভিড মহামারীর প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা সচল হতে শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানির পরিমাণ ও মূল্যও বেড়ে যায়। সে কারণেই ২০২০-২১ আর্থিক বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।

২০২০ সালের মার্চে দেশে দেশে কোভিডের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমে এসেছিল। মহামারীর ধাক্কা কাটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রতি ব্যারেল তেলে দাম প্রায় ৯০ ডলারে উঠেছিল।

মহামারীর ধকল কাটতে না কাটতেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধ। তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরের মার্চে ১৩৯ ডলার অতিক্রম করে।

চাহিদা বৃদ্ধি ও দাম বাড়ার কারণেই ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছিল বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

একই কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছিল। সেই ধারা চলতি আর্থিক বছরেও অব্যাহত থাকার কথা বলছেন তারা।

চলতি বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে; একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তার আগে অবশ্য কমতে কমতে ৬৫ ডলারে নেমেছিল।

বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১০১ ডলারে ওঠে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ওঠে ৯৫ ডলার ৭৫ সেন্ট।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছরই তেলের চাহিদা বাড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; দাম বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে তেল আমদানিতে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।”

একই কারণে চলতি অর্থবছরও ঊর্ধ্বমুখী ধারার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে মন্দাভাব থাকায় জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির পরও ডলার ও রিজার্ভে বড় ধাক্কা লাগেনি। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ছাড় ও প্রবাসী আয়ে গতি ছিল, এ কারণে খুব বেশি সমস্যা হয়নি।

“তবে আগামী দিনে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির চাপও বিদ্যমান। তাই ডলার ও রিজার্ভের ওপর যাতে নতুন করে চাপ তৈরি না হয়, সেজন্য এখনই কৌশলগত প্রস্তুতি নিতে হবে।”

দেশে এখন ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা। অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত ১ জুন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রেখে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুলাই, অগাস্টে ও সেপ্টেম্বরেও সেই দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।

শুধু দামে নয়, পরিমাণের দিক দিয়েও জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক দিয়ে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট কত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে তা এখনও প্রকাশ করেনি বিপিসি।

নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে। ২০২৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।

আমদানি করা জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, ক্রুড তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল। বাকি ৭৬ শতাংশই ছিল পরিশোধিত তেল, যা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

রিজার্ভ সন্তোষজনক থাকায় স্বস্তি

গত অর্থবছরে জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি পরিশোধ করার পরও রিজার্ভ সন্তোষজনক ছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের মন্দাভাব, ভোগ্যপণ্য আমদানি, শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডলারের বাজার স্থিতিশীল ছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রিজার্ভ বেড়েছিল বলেই চড়া দামে জ্বালানি কেনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেশ বেড়েছে। কিন্তু আমরা উচ্চমূল্যেই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার কিনতে পারছি।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকৃত রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাতে পতন ঠেকানো সম্ভব হয় এবং রিজার্ভ বাড়তে থাকে। এখন রিজার্ভ স্বস্তিজনক অবস্থায় আছে।

“কিন্তু চিন্তার বিষয়ও আছে। দেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যথেষ্ট ঋণ পাচ্ছেন না। রপ্তানিমুখী খাতের শিল্প–কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চলছে। এসব শিল্প–কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।”

তার কথায়, “গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট না কাটলে রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আনা কঠিন হবে। সংকট অব্যাহত থাকলে বিদ্যমান কারখানায় উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় আসাও কমবে।

“জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপণ্য আমদানি করতেই হবে। তাতে ডলার খরচ হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত রপ্তানি না হলে ডলারের জোগান কমবে। তখন রিজার্ভ ধরে রাখা যাবে না।”

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রেমিটেন্স বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো ও আইএমএফসহ অন্য দাতা সংস্থার কম সুদের বিদেশি ঋণের দিকেও মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এ অর্থনীতিবিদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার দিন শেষে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-অগাস্ট মেয়াদের ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে। গত ৩১ আগস্ট ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। দুই মাস পর পর আকুর বিল পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক; প্রতিবারই বিল শোধের পর রিজার্ভ খানিকটা কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।

জুলাই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানের ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.