Monday, June 29, 2026
spot_img
Home Op-eds and Interviews Mustafizur Rahman

অগ্রাধিকার নির্ধারণ সঠিক, বাস্তবায়ন সক্ষমতার নিশ্চয়তাই বড় চ্যালেঞ্জ – মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in জাতীয় অর্থনীতি on 27 June 2026

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা প্রণয়ন ও কাঠামোবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং নতুন পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছেন যা মনোযোগ ও প্রশংসার দাবি রাখে। এই বাজেটে রাজস্ব নীতি ও পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে বরাদ্দের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ শিথিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা জালের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা ও ব্যবসা সহজ ও উন্নত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, উৎসে কর্তনকৃত করকে অগ্রিম আয়করে রূপান্তর করে পরবর্তী সময়ে প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। অধিকাংশ রপ্তানিমুখী খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার পরিধি ও ব্যাংক ইন্সট্রুমেন্টের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আমদানি-প্রতিস্থাপনকারী ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সমর্থনে মধ্যবর্তী ও তৈরি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক সমন্বয় করার মতো বাজেটের পদক্ষেপগুলোতে উপরের বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে, সৃজনশীল অর্থনীতিকে প্রণোদনা দিতে, যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করতে এবং তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর পরিষেবা খাতে বিনিয়োগকে বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই সব পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক সংকেতগুলো প্রকৃত বিনিয়োগ, সরবরাহ-ভিত্তিক সাড়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাসে কতটা রূপান্তরিত হবে তা দেখতে হবে। এছাড়া উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে উত্তরণের সরকারি আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সাহায্য করবে তা এখনও দেখার বিষয়। নিঃসন্দেহে, বাজেট প্রস্তাবনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পদক্ষেপগুলো প্রত্যাশিত ফলাফল নিশ্চিত করার মতো পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে কি না, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। আর এখানেই নীতি নির্ধারকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো বাজেট কাঠামোর অভ্যন্তর থেকে উদ্ভূত, পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোর সঙ্গেও জড়িত।

বাজেটের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিবিএসের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যেখানে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, সেখানে বাজেটে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট অঙ্কটি হলো ৫ দশমিক শূন্য শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পরিকল্পিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে জিডিপিকে প্রকৃতপক্ষে ২ দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে হবে, বাজেটে উল্লিখিত ১ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৫৮৮ হাজার কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মাসের প্রকৃত অঙ্ক প্রায় ৩২৭ হাজার কোটি টাকা। এর জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অনুরূপ দুই মাসের তুলনায় ২০২৬ অর্থবছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনে রাজস্ব আদায় ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। যদি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয়, তবে রাজস্ব বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত হার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উল্লিখিত ১৮ দশমিক শূন্য-এর চেয়ে অনেক বেশি হতে হবে। এই বৃদ্ধির হার ৩০ দশমিক শূন্য শতাংশ থেকে ৩৫ দশমিক শূন্য শতাংশ পর্যন্ত হতে হবে, যা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ।

বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে, বাজেটে এই বছরের গড় মুদ্রাস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে কম, অর্থাৎ ৭ দশমিক শূন্য শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-২ দশমিক ৫ শতাংশ), বাজেটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক শূন্য শতাংশ ধরা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটে উল্লিখিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে গত বছরের তুলনায় জুন মাসে রপ্তানিকে এক অসম্ভব ১৫৫ শকাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে হবে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের পূর্বাভাসটি বেশ আশ্চর্যজনক। প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে, অর্থবছর ২০২৫-২৬) রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর তুলনায় ১৯ দশমিক শূন্য শতাংশ বৃদ্ধি। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ দশমিক শূন্য বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জন্য বাজেটের পূর্বাভাসে মাত্র ১০ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে (পুরো অর্থবছরের জন্য ৩২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। জুন ২০২৬-এ রেমিট্যান্সের পরিমাণ হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যেখানে জুন ২০২৫-এ এই পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রধান কর্মক্ষমতা সূচকগুলোর উল্লিখিত অসামঞ্জস্য যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেটি আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত কর্মক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রাগুলোর সত্যতা ও যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রকৃতপক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংশোধনের সময়ই এই সংখ্যাগুলো প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। যদিও বাজেট উপস্থাপনের সময় আরও হালনাগাদ তথ্য উপলব্ধ ছিল, কিন্তু বাজেট প্রণয়নে সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য করে তুলতে এবং বাজেটীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে এই কাজটি করা উচিত ছিল।

অতীতে ক্ষমতাসীন সরকার মনে করত তাদের কর্মক্ষমতা এতটাই দুর্বল দেখানো উচিত নয় যে, তারা উল্লেখযোগ্যভাবে কম সংশোধিত বাজেট লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এই প্রথা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল। তারা কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (মার্চ থেকে জুন, ২০২৬) ক্ষমতায় ছিল এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। একটি আরও বাস্তবসম্মত ভিত্তি থাকলে তারা আরও অর্জনযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারত। সরকার এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়নি এবং সেই পুরোনো প্রথাই অনুসরণ করতে ফিরে গেছে।

অনেক পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং ভ্যাট ও এআইটি মওকুফের ফলে নিঃসন্দেহে রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে, ৬৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়া উচিত । আন্তঃকার্যকরী ও সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন করা দরকার। অনেক দেশ কিউআর-ভিত্তিক ও ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যেদিকে বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাজেট প্রস্তাবনা, সম্পদ বরাদ্দ এবং রাজস্ব ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও পর্যাপ্ত উপাদান হলো সেগুলো বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করা। বৃহত্তর সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ যার প্রেক্ষাপটে বাজেটীয় উদ্যোগ ও প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাগুলো থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল লাভ করতে হবে।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বরাদ্দের দক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রত্যাশিত ফলাফল ও প্রভাব অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে এর চেয়ে অনেক কম বরাদ্দ ব্যয় করতেও হিমশিম খেয়েছে। অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে বরাদ্দকৃত সম্পদ ব্যয় করার ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যা মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত-সম্পর্কিত ফলাফল অর্জনে সহায়তা করবে। সামাজিক সুরক্ষা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক কর্মসূচির আরও একত্রীকরণের প্রয়োজন হবে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে নির্ভর করবে উচ্চতর বিনিয়োগের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়াকে উদ্দীপিত করার ওপর। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার মানও কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ হবে না। শুল্ক কেন্দ্র থেকে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র এবং খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের কার্যক্রম তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি, তাদের এ ব্যাপারে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। অতীতে কম ব্যয় ও কম আয়ের বাস্তবতা বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছিল। যদিও তা নিম্নস্তরের ভারসাম্য বজায় রাখার বিনিময়ে হয়েছিল। এবার ধারণা করা হচ্ছে, বরাদ্দকৃত অর্থ যেন বাস্তবে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে যদি বাজেটে নির্ধারিত অত্যন্ত উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় রাজস্ব আহরণ পৌঁছাতে না পারে, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, সরকার বাজেটে পরিকল্পিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ঋণ নিতে বাধ্য হবে। উচ্চ অভ্যন্তরীণ ঋণ বেসরকারি খাতকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারে। উচ্চ বৈদেশিক ঋণ ইতোমধ্যেই বাজেটে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশকে ‘নিম্ন-ঝুঁকি’ থেকে ‘মাঝারি ঝুঁকি’ শ্রেণিতে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করেছে। স্বনামধন্য বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো বাংলাদেশের কান্ট্রি আউটলুককে ‘নেতিবাচক’-এ অবনমিত করেছে। বৈদেশিক ঋণের খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বাজেটে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ ঋণ ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য ঋণ পরিস্থিতি সক্রিয় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা করা উচিত।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ব্যতিক্রম রয়েছে। অন্যদিকে বাজেটে যে ভিত্তিগত কর্মক্ষমতা সূচকগুলোকে নির্দেশক হিসেবে নেওয়া হয়েছে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না। বাজেটীয় কাঠামোকে দুর্বল করে এবং সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়। এজন্য বাজেট প্রস্তাবনা এবং রাজস্ব ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গুণমান, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

স্যার রিচার্ড অ্যাটেনবোরো পরিচালিত ১৯৭৭ সালের ‘এ ব্রিজ টু ফার’ চলচ্চিত্রে বিলম্ব, সমন্বয়ের ব্যর্থতা এবং অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধের কারণে মিত্রবাহিনীর অভিযানের বীরত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সফলভাবে প্রতিবন্ধকতাগুলোর মোকাবিলা করবে যাতে অভিযানটি সম্পন্ন করা যায় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়।

সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, অনুবাদ, প্রতিক্রিয়া ও চিঠিপত্রে প্রকাশিত মতামত, উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব। এগুলোর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সর্বদা মিল না-ও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখার বিষয়ে জাতীয় অর্থনীতি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ]

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.